রফতানি বাণিজ্যে সফলতার কারণে ২০২৫ সালে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে চীন। অভ্যন্তরীণ ভোগ ও চাহিদা অত্যন্ত দুর্বল থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে চীনা পণ্যের রেকর্ড চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে দেশটি এ লক্ষ্য পূরণ করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তবে বেইজিংয়ের এ কৌশল দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। খবর রয়টার্স।
চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (এনবিএস) গতকাল এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে আবাসন খাতের সংকটের পর চীন অভ্যন্তরীণ গ্রাহকদের পরিবর্তে শিল্প উৎপাদন ও রফতানি খাতে বেশি বিনিয়োগ করছে। এতে গত বছর চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শুল্ক নীতির কারণে দেশটিতে চীনের রফতানি কমেছে ২০ শতাংশ। তবে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার নতুন বাজারগুলো সে ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।
দক্ষিণ চীনের কারখানা মালিক ডেভ ফং জানান, আগে তার কারখানার ১৫ শতাংশ ক্রয়াদেশ আসত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বর্তমানে তা অনেক কমে গেলেও ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বাজারে তারা বেশ ভালো ব্যবসা করছেন।
রফতানি খাতে বড় সাফল্য থাকলেও চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চিত্র এখনো ম্লান। এনবিএসের তথ্যানুযায়ী, গত বছর শিল্পোৎপাদন ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়লেও খুচরা বিক্রি বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৭। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে আবাসন খাত; যেখানে বিনিয়োগ কমেছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া স্থানীয় সরকারগুলোর ঋণ কমানোর চাপের কারণে ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে স্থায়ী সম্পদ বিনিয়োগ ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
এনবিএসের প্রধান কাং ই বলেন, ‘২০২৫ সালের চীনের এ উন্নয়ন অনেক কঠিন প্রচেষ্টার ফল ছিল। বর্তমানে দেশটির অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ শক্তিশালী সরবরাহ ও দুর্বল চাহিদা।’
গত চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) চীনের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। এর আগে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
মূলত অভ্যন্তরীণ ভোগ এবং বিনিয়োগে ধীরগতির কারণেই শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে।